Skip to main content

শবে মেরাজের তাৎপর্য, করণীয় ও বর্জনীয়

 

লাইলাতুল মেরাজ। ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। নবীজি সা. সশরীরে ঊর্ধ্ব জগৎ গমন, সে রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়াসহ জান্নাত জাহান্নাম ভ্রমণ শবে মেরাজের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বৃদ্ধি করে।

এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল নবুওয়তের ১১তম বছরের ২৭ রজবে। তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ৫১ বছর। মেরাজ হয়েছিল সশরীরে জাগ্রত অবস্থায়।


মেরাজের বিবরণ পবিত্র কোরআনের সুরা নাজমে ও সুরা ইসরায় বিবৃত হয়েছে। প্রসিদ্ধ হাদিসের গ্রন্থ বুখারি, মুসলিম ও আব দাউদসহ অন্যান্য গ্রন্থে মেরাজের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ সূত্রে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

সে (জিবরাইল আ.) পাখাবিশিষ্ট, সে স্থিত হয়েছে দূর ঊর্ধ্বে। অতঃপর নিকটবর্তী হলো, পরে নির্দেশ করল। তারপর হলো দুই ধনুকের প্রান্তবর্তী বা আরও নিকট। পুনরায় তিনি ওহি করলেন তার বান্দার প্রতি যা তিনি ওহি করেছেন। ভুল করেনি অন্তর যা দেখেছে। তোমরা কি সন্দেহ করছ তাকে, যা তিনি দেখেছেন সে বিষয়ে। 
 
আর অবশ্যই দেখেছেন তিনি তাকে দ্বিতীয় অবতরণ স্থলে; সিদরাতুল মুনতাহার কাছে; তার নিকটেই জান্নাতুল মাওয়া। যখন ঢেকে গেল সিদরা যা ঢেকেছে; না দৃষ্টিভ্রম হয়েছে আর না তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন; অবশ্যই তিনি দেখেছেন তাঁর রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ। (সুরা নাজম ১-১৮)

শবে মিরাজ উপলক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো নামাজ আল্লাহর রসুলের হাদিসের মাধ্যমে অথবা সাহাবিদের আমলের মাধ্যমে অথবা তাবেয়িদের আমলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়নি। এ রাতের কোনো ইবাদত আল্লাহর রসুলের কোনো হাদিসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়নি। মেরাজের পরে নবীজি যত বছর বেঁচেছিলেন, তাকেও বিশেষ কোনো আমল করতে দেখা যায়নি।

শবে মেরাজ এর বিশেষ কোনো আমল, রোজা বা ইবাদত নির্ধারিতভাবে শরীয়তে সাব্যস্ত নেই। মুমিনগণ নিজ পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো ইবাদত বন্দেগি ও নেক আমল করতে পারেন।
 
শবে মেরাজ উপলক্ষ্যে নফল রোজা রাখার কোনো বর্ণনা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই। আল্লাহর রসুল ও তার অনুসারীরা এই দিনে বিশেষভাবে কোনো রোজা রেখেছেন এমন কোনো বর্ণনা ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এই দিনে শবে মেরাজ উপলক্ষ্যে রোজা রাখা কোনো ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না।
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী এখানে স্পষ্ট বলেছেন যে, রজব মাসের কোন রাতের বিশেষ নামাজের ফজিলত সহিহ হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়।
 
শবে মেরাজ যেহেতু আমাদের দেশে ২৭ তারিখে পালন করা হয়, সুতরাং এ রাতের বিশেষ নামাজ সহিহ হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। আল্লামা ইববে রজব হাম্ভলি রহ. বলেন, রজব মাসের বিশেষ কোন নামাজ সহিহভাবে প্রমাণিত নয়। (লাতায়িফুল মাআরিফ ১৬৪)

সুতরাং এক রাতে ইবাদত করে শেষ করে ফেলবেন, আর ফরজ নামাজ ঠিক মত আদায় করবেন না, এমন কোনো বিধান ইসলাম দেয় না। সুতরাং এসব ইবাদত বর্জনীয়। 
 
ধারাবাহিক ইবাদত অল্প হলেও আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দের। নিয়মিত নামাজ আদায়, আল্লাহর জিকির, তাসবিহ আদায়, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, সুদ, ঘোষ, মিথ্যা বলা থেকে বিরত থেকে আমলি জীবন যাপনই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের থেকে কামনা করেন। 


Comments